প্রথম কবিতার আগে - শিমুল চৌধুরী ধ্রুব
একদিন ঘুম ভেঙে দেখি আমার
বুকের ভেতর একটি পরিত্যক্ত রেলস্টেশন।
সেখানে কোনো ট্রেন আসে না।
কেবল একটি বানর চেয়ারে বাঁধা
বসে আকাশের বানান লিখছে।
তার কব্জিতে পেন্সিল বাঁধা।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
কে তোমাকে কবিতা লিখতে শিখিয়েছে?
সে বলল, মানুষ প্রথমে আমাকে বেঁধেছে,
তারপর বলেছে, “এবার তুমি স্বাধীন।”
দুপুরে যিশু এলেন।
তার গাধাটি আমার উঠোনে ঘাস খাচ্ছিল।
আমি তাকে এক কাপ চা দিলাম।
তিনি চায়ের ভেতর তাকিয়ে বললেন, মানুষ অলৌকিকতায় নয়,
আশ্বাসে বিশ্বাস করে।
অলৌকিকতা এত গোপনে আসে যে, কেউ তাকে কখনই চিনতে পারেনি।
ঠিক তখন একটি প্রায় গাভীর মতো এক প্রাণী দরজায় এসে দাঁড়াল।
তার গোলাপি চোখে দূরের ভোর জমে ছিল।
তার ওলান চিরে ঝরছিল ‘সারাবান তাহুরা’
সে বলল, আমাকে একজন সত্যিকারের বাথানিয়ার কাছে নিয়ে যাবে?
আমি বললাম, এই শহরে আর বাথানিয়া নেই।
এখানে সবাই নিজের মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে কাজে যায়।
সন্ধ্যায় ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখে, মুখের জায়গায় একটি খোলা জানালা।
সে আমার বুকের ভেতর থেকে একটি মানচিত্র টেনে বের করল।
সেখানে কোনো দেশ ছিল না।
কেবল অসংখ্য দরজা।
প্রতিটি দরজার ওপারে একই ঘর, একই চেয়ার, একই বানর
যে বারবার নতুন করে প্রথম কবিতাটি লিখছে।
যিশু উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, আজ কেউ মরবে না।
আজ কেবল কিছু নাম পৃথিবী থেকে মুছে যাবে।
ভোর হলে বানরটি আর ছিল না। চেয়ারটি খালি।
পেন্সিলটি মাটিতে পড়ে আছে।
কাগজে মাত্র একটি বাক্য লেখা ছিল
“যে ভাষার কোনো হাড় নেই, সে ভাষাই সবচেয়ে বেশি রক্তপাত ঘটায়।”
তার নিচে কোনো স্বাক্ষর ছিল না।
শুধু একটি ছোট পদচিহ্ন
যা ধীরে ধীরে শিকড় হয়ে মাটির ভেতর নেমে যাচ্ছিল।
১৪ জুলাই, ২০২৬/ নিকেতন, ঢাকা