অর্থনীতি ডেস্ক: বৈশ্বিক তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারিত হলেও সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তান রপ্তানি ও বাজার অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক তৈরি পোশাকের বাজার ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৫৭৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এ সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম।
২০২১ সালে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশ ছিল ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে সামান্য বেড়ে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ভিয়েতনামের অংশ ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশে পৌঁছেছে, ফলে দেশটি বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। ভারতের বাজার অংশ ৩ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ১ দশমিক ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
অন্যদিকে চীনের বাজার অংশীদারিত্ব ৩১ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে কমে ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে এলেও দেশটি মূল্যছাড়ের কৌশল গ্রহণ করে বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে এখন কম দামের পোশাকের চেয়ে উচ্চমূল্যের ও মূল্যসংযোজনভিত্তিক পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও সীমিত ধরনের পণ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকায় নতুন বাজারের পুরো সুবিধা নিতে পারছে না।
বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশ কমে যাওয়ার পেছনে বৈশ্বিক মন্দার পাশাপাশি নীতিগত দুর্বলতা, ব্যাংকিং সংকট, প্রণোদনা হ্রাস, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সমস্যা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি বড় কারণ।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, চীন থেকে সরে আসা ব্যবসার বড় অংশ প্রতিযোগী দেশগুলো পেলেও বাংলাদেশ সক্ষমতা, অবকাঠামো, বিপণন ও কৌশলগত পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশকে দ্রুত পণ্যের বহুমুখীকরণ, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক (ম্যান-মেড ফাইবার) পোশাক উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, উন্নত নকশা এবং আগ্রাসী বিপণন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি