স্পোর্টস ডেস্ক: ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে এনসো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের এই জয়ে দুটি অ্যাসিস্ট করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আগামী ১৯ জুলাই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে একাধিক রেকর্ড গড়েছে আর্জেন্টিনা ও মেসি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন দুই দল। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে পারলে ইতালি (১৯৩৪-৩৮) ও ব্রাজিলের (১৯৫৮-৬২) পর তৃতীয় দেশ হিসেবে ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।
১৯৯২ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং চালুর পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বের এক নম্বর (আর্জেন্টিনা) ও দুই নম্বর (স্পেন) দল।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সপ্তমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে। ফাইনাল খেলার সংখ্যায় তারা ব্রাজিলের সমান হয়েছে (৭), তাদের চেয়ে বেশি আছে শুধু জার্মানি (৮)। এছাড়া টানা ১৩টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করার নজির গড়ে নতুন বিশ্বরেকর্ডও করেছে স্কালোনির দল।
ম্যাচটিতে মেসি আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি সর্বোচ্চ ১২টি ডুয়েল জিতেছেন, যা ২০১৪ সালের পর বিশ্বকাপে তার সেরা। একই ম্যাচে ৯টি সফল ড্রিবলও করেছেন, যা চলতি বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড আরও দীর্ঘ করেছেন মেসি। নকআউট পর্বে তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা এখন ১০, যা গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে ছয়টি বেশি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পেলে ও আন্তোয়ান গ্রিজম্যানের অ্যাসিস্ট মাত্র চারটি।
বিশ্বকাপে মেসির মোট অ্যাসিস্ট এখন ১২টি, যা দিয়েগো ম্যারাডোনার (৮) চেয়ে অনেক বেশি। ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে ৩৩ ম্যাচে তার সরাসরি গোল অবদান দাঁড়িয়েছে ৩৩টি—২১ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের অবদান ২৫টি।
মেসি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৯৯টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। আর একটি সুযোগ সৃষ্টি করলেই তিনি শততম 'চান্স ক্রিয়েট'-এর মাইলফলকে পৌঁছাবেন। গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় স্থানে আছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা (৭১)।
চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ২৫টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি। গত ৬০ বছরের মধ্যে এক আসরে সর্বোচ্চ সুযোগ তৈরির রেকর্ড ৩১টি, যা জোহান ক্রুইফ (১৯৭৪) ও আন্তোনিও সিমোয়েস (১৯৬৬)-এর দখলে। আর্জেন্টাইনদের মধ্যে এক আসরে সর্বোচ্চ ৩০টি সুযোগ তৈরি করেছিলেন ম্যারাডোনা (১৯৮৬)।
৩৯ বছর ২১ দিন বয়সে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলা ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড়ও এখন মেসি। রোববারের ফাইনালে খেললে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়বেন তিনি।
এনসো ফার্নান্দেজও ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বকাপে প্রথম আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে একই খেলোয়াড়কে (এনসো) দুইবার অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। অন্যদিকে লাউতারো মার্তিনেজ বদলি নেমে একই বিশ্বকাপে একাধিক গোল করা প্রথম আর্জেন্টাইন ফুটবলার হয়েছেন। এছাড়া মেসির কাছ থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লাউতারোর এটি ছিল ১০তম অ্যাসিস্ট, যা কোনো আর্জেন্টাইন সতীর্থকে দেওয়া তার সর্বোচ্চ।
ইংল্যান্ডের জন্যও ম্যাচটি হতাশার। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চারবার খেলে তিনবারই বিদায় নিতে হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। ১৯৬৬ সাল ছাড়া তারা আর কখনও সেমিফাইনাল পেরোতে পারেনি। ম্যাচে ইংল্যান্ডের মোট শট ছিল মাত্র পাঁচটি, যা গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন।
অ্যান্থনি গর্ডনের ৫৫ মিনিটের গোলের পর থেকে লাউতারোর ৯০+২ মিনিটের জয়সূচক গোল পর্যন্ত বলের দখলে ছিল আর্জেন্টিনা ৮৮ শতাংশ, ইংল্যান্ডের মাত্র ১২ শতাংশ। শেষ পর্যন্ত সেই আধিপত্যই মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট এনে দেয়।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি