স্পোর্টস ডেস্ক: ইংল্যান্ডকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন এক বিতর্কে জড়িয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে উদযাপনের সময় কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলারের হাতে দেখা যায় ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি পতাকা। দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ; যা আর্জেন্টিনায় ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। রাজনৈতিক বার্তাবাহী ওই পতাকাই এখন আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) ফিফার শাস্তির মুখে ফেলতে পারে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ২৪ ঘণ্টা আগেই ফিফা ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত কোনো ব্যানার, পতাকা বা বার্তা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কীভাবে পতাকাটি মাঠে এল, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, তাদের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক, আদর্শিক কিংবা ধর্মীয় বার্তা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, জাতীয় ফুটবল সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে পরিস্থিতি বিবেচনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় ফিফা।
এই ঘটনায় এএফএর বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা কিংবা আর্থিক জরিমানা হতে পারে। পতাকা প্রদর্শনকারী খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধেও ব্যক্তিগতভাবে জরিমানা করার সুযোগ রয়েছে। তবে খেলায় নিষেধাজ্ঞা বা ম্যাচ থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তি সাধারণত গুরুতর বা বারবার একই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়ে থাকে।
এ ধরনের ঘটনার নজির অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে সার্বিয়ার বিপক্ষে গোল করে সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা ও জেরদান শাকিরি আলবেনিয়ার জাতীয় প্রতীক ‘দুই-মাথাওয়ালা ঈগল’-এর ভঙ্গিতে উদযাপন করেছিলেন। রাজনৈতিক বার্তা বহনের অভিযোগে পরে ফিফা জাকা ও শাকিরিকে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ করে এবং অধিনায়ক স্টেফান লিখস্টাইনারকে ৫ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছিল।
চলতি বিশ্বকাপেও একই ধরনের আরেকটি বিতর্ক দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর মিসরের কোচ হোসাম হাসান মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপন করেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত ফিফা এ ঘটনায় কোনো শাস্তির ঘোষণা দেয়নি।
রোববার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। তাই তার আগেই ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেবে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। তদন্ত অব্যাহত থাকলে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক রায় বা সম্ভাব্য শাস্তির ঘোষণা আসতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব