গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধায় সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা। তবে গাইবান্ধা জেলা তথ্য অফিসের সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত।
গাইবান্ধা জেলার সব নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নিউব্রিজ পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ১০৯ সেন্টিমিটার, চকরহিমাপুর পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানি ৯৭ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় বন্যাজনিত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৯টা থেকে ১৬ জুলাই সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৭ দশমিক ০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ২৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে দুর্গত মানুষকে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ১৬৩ দশমিক ৪৭০ মেট্রিক টন জিআর চাল, জিআর ক্যাশ বাবদ ৪ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা, ১ হাজার ৪৫ প্যাকেট শুকনা খাবার, ৩০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহমঞ্জুরির জন্য ৯ লাখ টাকা মজুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, সম্ভাব্য প্লাবিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে জেলা তথ্য অফিস, গাইবান্ধার উদ্যোগে নিয়মিত মাইকিং ও সড়ক প্রচারণা পরিচালনা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে সকলকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব