রংপুর প্রতিনিধি: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সভায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রংপুর জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আবু সাঈদের স্মরণে ক্যাম্পাসে জনসমাগমে চত্বর ভরে যাবে বলে তিনি আশা করেছিলেন। কিন্তু অর্ধেকের বেশি আসন খালি দেখে তিনি মর্মাহত হন।
মন্ত্রী বলেন, আজ যদি এই চত্বর মানুষে পরিপূর্ণ থাকত, তবে আবু সাঈদের আত্মাও শান্তি পেত। তাঁর সহপাঠীরা কীভাবে তাঁকে স্মরণ করছে, সেটিই আজ সবচেয়ে বড় বার্তা হওয়া উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, বক্তৃতা দেওয়ার চেয়ে সেই বক্তব্য বাস্তবায়ন করাই এখন সময়ের দাবি।
আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ ও বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করেছে।
স্মরণসভায় রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী কোনো মন্তব্য করেননি; তিনি তাঁর বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত, লাল ব্যাজ ধারণ এবং শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পার্ক মোড়ে স্থাপিত অস্থায়ী আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভে দুই মন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
একই দিনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং এনসিপির শীর্ষ নেতারাও পৃথকভাবে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি