রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীর বাজারে কাঁচাবাজারের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে চাল ও ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ডিম ও পেঁয়াজের দামে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও ও নিউমার্কেট এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। ব্যবসায়ীরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীতে সবজিবাহী ট্রাক পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
এছাড়া টানা ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ সংকটের কারণেই দাম বেড়েছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন।
সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ বাজারদর প্রতিবেদনে চাল, ব্রয়লার মুরগি, বেগুন ও কাঁচামরিচসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির তথ্যও উঠে এসেছে।
রাজধানীর বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ও ঢ্যাঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শশা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। কয়েক দিন আগেও এসব সবজি প্রকারভেদে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা কম দামে বিক্রি হয়েছে।
এদিকে, এক সপ্তাহ আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাউ এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে পেঁপের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা কামাল বলেন, বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে সবজি ও কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে। তবে কয়েক দিন আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দামও কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাজার করতে আসা ক্রেতা মানিক ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীরা সরবরাহ সংকটের কথা বললেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে দেশি রসুনের দামও কিছুটা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমে বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায়।
চালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সরু চাল (নাজিরশাইল বা মিনিকেট) প্রতি কেজি বর্তমানে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে সর্বনিম্ন ৭০ টাকা ছিল। একইভাবে মোটা চাল (স্বর্ণা বা চায়না ইরি) কেজিপ্রতি ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় উঠেছে। বর্তমানে এ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে মাঝারি মানের পাইজাম বা লতা চালের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ চাল প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রোটিনের অন্যতম সাশ্রয়ী উৎস ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। অন্যদিকে, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে খামার থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় মুরগির দাম বেড়েছে।
তবে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। ফার্মের বাদামি ডিমের প্রতি হালিতে ৫ টাকা কমে বর্তমানে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম