রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ পাহাড় ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলা এখনো বিপর্যস্ত। সাম্প্রতিক সময়ে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও নতুন করে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে দেশের সাত জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে সিলেট অঞ্চলের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে (১৯ থেকে ২৩ জুলাই) উজানের ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
নদীর পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের শঙ্কা
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। কোথাও কোথাও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ কারণে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু জায়গা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোর বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস, বাড়তে পারে দুর্ভোগ
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়ার বর্ধিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে এখন পর্যন্ত ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৭টি উপজেলার ৩৬২টি ইউনিয়ন এবং আটটি পৌর এলাকায় দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পাহাড় ধস ও পানির স্রোতে বেড়েছে প্রাণহানি
সাম্প্রতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড় ধস ও পানির স্রোতে ভেসে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২৫ জন এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। এছাড়া বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে ৮৪৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্গত জেলাগুলোতে চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামে ৭৫ লাখ টাকা ও এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারে ৪০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল এবং রাঙামাটিতে ৩০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
তবে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম