স্টাফ রিপোর্টার: কাস্টমস ডকুমেন্টস জালিয়াতিসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ ও ৫০ লাখ শলাকা সিগারেট চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের চেষ্টাকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শেখ সেজানকে (২৬) গত বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৬টার দিকে নেপাল পালানোর সময় ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়।
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র চীন থেকে বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় ফেব্রিক্স আমদানির মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে উচ্চশুল্কের অন্তত ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ আমদানি করেছে এবং কমপক্ষে ১০-১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা হয়েছে যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সার্ভার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে অবৈধ অনুপ্রবেশমূলক একটি আন্তর্জাতিক চোরাচালানের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এ ঘটনায় সিএমপির বন্দর থানায় দায়ের করা মামলার ঘটনায় আগে ৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তকালে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শেখ সেজানকে গ্রেপ্তার করা হলো।
তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার ক্রাইম ও প্রতারণা সংক্রান্ত ৭টি মামলা রয়েছে। সিএমপির বন্দর থানার কাস্টমস সংক্রান্ত মামলা দুইটির বিপরীতে এখন পর্যন্ত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড’এর পরিচালক ও চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন ও বাকির হোসেন, কর্মচারী খোরশেদ আলম রিপন, মিজান; চক্রের অপর সদস্য আশরাফ হোসেন রাজু, খায়েজ আহমেদ আরিফ এবং বড় রাজু’দের তদন্তকালীন বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল।
আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিদেশি মদ জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া আমদানি ঋণপত্র (এলসি) সৃজন পূর্বক রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সার্ভার এনবিআরের নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হ্যাক করে বন্দর থেকে পণ্য খালাসের অপচেষ্টা করে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এক্ষেত্রে আসামি কাস্টমস ও বন্দরের সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছে।
শেখ সেজান তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা ব্যবহার করে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ও সিপিএ পোর্টালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অন্যের ইউজার আইডির অননুমোদিত ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং প্রতারণামূলক কাস্টমস কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। যা আগে গ্রেফতার হওয়া মো. আশরাফ হোসেন রাজু বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছিল।
তদন্তে প্রাপ্ত ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ২০২৪ সালের ২০ মে একটি মোবাইল অপারেটরের ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাস্টমসের একজন অফিসারের ইউজার আইডি দিয়ে অননুমোদিতভাবে সার্ভারে লগইন করা হয় এবং পরবর্তীতে একই ইউজার আইডি ব্যবহার করে সিগারেট চোরাচালানের মামলায় LC-Gi Registration ও Open কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। ইতিপূর্বে শেখ সেজানকে (২৬) গ্রেফতারে নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানাধীন তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনাকালে সে পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও তার নিজবাড়ি থেকে এনবিআর সার্ভার হ্যাক করে LC-i Registration ও Open কার্যক্রম সম্পন্ন করার কাজে তার নামে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নম্বরের ব্যবহৃত সেটটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছিল।
প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে জানা যায় যে, আসামি তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও সংঘবদ্ধ চোরাচালানে উক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ভূমিকা পালনের প্রমাণ মিলেছে।
আসামি শেখ সেজান আগেও সরকারি বিভিন্ন জনসেবামূলক ওয়েবসাইট ক্লোনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, জন্মনিবন্ধন, টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবা জালিয়াতির অভিযোগে সিএমপি সিটি ও ডিএমপি সিটিটিসি টিমের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছিলেন। সে ও তার সহযোগীরা সরকারি ওয়েবসাইটের অনুরূপ প্ল্যাটফর্ম তৈরি, নাগরিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থেকে প্রতারণামূলকভাবে সহজ সরল লোকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব