স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবল মানেই মাঠের উত্তেজনা, তবে এর বাইরেও লুকিয়ে থাকে অদ্ভুত সব পরিসংখ্যান। এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য হলো, ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সম্পূর্ণ টাক মাথার কোচ শিরোপা জিততে পারেননি! ৯৬ বছরের দীর্ঘ এই টুর্নামেন্টে ২২টি আসর পেরিয়ে গেলেও, ২১ জন চ্যাম্পিয়ন কোচের সবার মাথাতেই ছিল চুল। তবে এবার ইতিহাসের এই অদ্ভুত পাতাটি হয়তো উল্টে যেতে পারে। স্পেনের বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সামনে সুযোগ এসেছে এই 'টাক-অভিশাপ' ঘুচিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ার।
বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি যেন এতদিন কেবল চুলওয়ালা কোচদেরই পকেটেই গেছে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের আলবার্তো সুপিচ্চি দিয়ে যে চ্যাম্পিয়নদের যাত্রার শুরু হয়েছিল, তা আজও অব্যাহত। ইতালির ভিত্তোরিও পোজ্জো ইতিহাসের একমাত্র কোচ হিসেবে দু'বার (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) বিশ্বকাপ ছুঁয়েছেন, তারও মাথায় চুলের কোনো কমতি ছিল না। ১৯৭৮ সালে সিগার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা চুলের আর্জেন্টাইন কোচ সেসার লুইস মেনোত্তি থেকে শুরু করে ১৯৯৮ সালের ফরাসি কোচ এমে জাকে। সবারই মাথাভর্তি চুল ছিল। এমনকি ২০০৬-এ ইতালির মার্সেলো লিপ্পির নজরকাড়া ধূসর চুল হোক বা ২০১৮-তে দিদিয়ে দেশম এবং ২০২২-এ লিওনেল স্কালোনির কথা বলা হোক, তারা কেউই টাক ছিলেন না।
ইতিহাসে এমন কয়েকজন বিশ্বকাপজয়ী কোচ অবশ্য এসেছেন যাদের মাথার সামনের দিকের চুল কিছুটা পাতলা ছিল। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানো আলফ র্যামজি কিংবা ২০১০ সালের স্প্যানিশ কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের কথা এখানে বলা যেতে পারে। তবে তাদের কাউকেই পুরোপুরি ‘টাক’ বলা চলে না। সম্পূর্ণ মসৃণ মাথার কোনো কোচ বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেছেন, এমন দৃশ্য ফুটবল বিশ্ব আজও দেখেনি।
তবে এবার সেই অপূর্ণতা দূর করার মিশনে নেমেছেন ৬৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মাথায় কোনো চুল নেই, তবে এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপও নেই। লা রিওহা থেকে উঠে আসা এই কোচ নিজের টাক নিয়ে রীতিমতো গর্ববোধ করেন। ২০২৩ সালের নেশনস লিগ জয়ের পর কিছু সমর্থক তাকে তার টাক নিয়ে উপহাস করলে তিনি কড়া জবাব দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, 'গায়ের রঙের মতো মানুষের শারীরিক গঠন নিয়েও সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত এবং তিনি নিজের এই টাক মাথা নিয়ে অত্যন্ত সুখী।' তার এই আত্মবিশ্বাসের প্রমাণও তিনি দিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তার অধীনে স্পেন উয়েফা নেশনস লিগ ও ইউরো ২০২৪ শিরোপা ঘরে তুলেছে।
ফুটবলীয় সাফল্যে চুল কিংবা টাকের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, এটি নিছকই একটি কাকতালীয় পরিসংখ্যান। তবে পরিসংখ্যনটি যে শতভাগ সত্যি, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন। এই মহারণে যদি স্প্যানিশরা জয় তুলে নেয়, তবে দে লা ফুয়েন্তে কেবল দেশকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপই উপহার দেবেন না; বরং ৯৬ বছরের পুরনো এক অলিখিত ‘অভিশাপ’ ভেঙে ফুটবল ইতিহাস নতুন করে লিখবেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব