স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের গত ৫ মাসে সব মন্ত্রণালয়েই সফলতা এসেছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শনিবার (১৮ জুলাই) বর্তমান সরকারের ৫ মাস পূর্তিতে বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১৫০ দিনেই এই সরকার জনগণের কাছে নিরপেক্ষ এবং আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সময়ের পরিমাপে ১৫০ দিন হয়তো খুব দীর্ঘ কোনো সময় নয়। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রতিটি দিনই জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য। প্রতিটি মুহূর্তই দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা পালনের পরীক্ষা। প্রতিটি পদক্ষেপই মানুষের আস্থা অর্জনের নতুন পরীক্ষা।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই একটি সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ, প্রতিটি অর্জন, প্রতিটি সংস্কার এবং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করাকে আমরা নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখি।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার মূলত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয়সাশ্রয় ও দুর্নীতিমুক্ত পর্যালোচনা নিশ্চিত করে সরকারের সুশাসনের দৃঢ়বার্তা। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের বিভিন্ন ধরনের বিনির্মাণ চলমান রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পাঁচ মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের প্রতি সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
জনগণকে সরকারের কাজের প্রকৃত মূল্যায়নকারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘জনগণের আস্থা, সমর্থন ও গঠনমূলক মতামতেই আগামী দিনের পথচলা সরকারের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিগত দিনের ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে পুনরুদ্ধারে ম্যান্ডেট পেয়েছেন গণমানুষের নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব হাতে নিয়ে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মাঝেই তিনি মানুষের আস্থার চূড়ায় অবস্থান করছেন।’
গত পাঁচ মাসে জনগণের আস্থা ভালোবাসা ও সমর্থন ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষায় স্বল্প সময়ের মধ্যে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফলতা অর্জনে বর্তমান সরকার দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।’
বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘দুই বছর আগে আজকের এই সময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছিল। ন্যায্য অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী গুলি করে হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ঢাকায় ফারহানাসহ অসংখ্য নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগে সে আন্দোলন পরিণত হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘সকল শ্রেণির, সকল পেশা, সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের এক গণঅভুত্থানে যার প্রবল জনরোষে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে, সেই পথ পরিক্রমায় গণআকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে গণঅভ্যুত্থানে এবং গত ১৬ বছরে সবচাইতে বেশি গুম, খুন, হামলা, মামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার দল বাংলাদেশ জাতীয় দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার। আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সকল শহীদকে এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে সরকার। একইসঙ্গে যেভাবে জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়েছে, তাও বাস্তবায়ন করছে বর্তমান সরকার। নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় উন্নয়নের গালগল্প অনেক হয়েছে, কিন্তু কোথায় সেই উন্নয়ন? অনেক স্থানে অবনতি হয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবনতি ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যোবোধের অবক্ষয়। যতক্ষণ মানসিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের উন্নয়ন না হবে, ততক্ষণ কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
প্রেস সচিব বলেন, ‘কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে দেশের গুণগত পরিবর্তনে নিজেই কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। যে দলেরই হোক, যে মতের হোক, মতাদর্শ যাই হোক, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। মতের পার্থক্য ব্যালটে হতে পারে, কিন্তু দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত প্রেস-সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস-সচিব কে এম নাজমুল হক, গাজী শাহরিয়ার পামির, আশরোফা ইমদাদ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।
শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়া দলটির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর ফিরে আসেন দেশে। ভাইস চেয়ারম্যান থেকে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হন এবং দুটি আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
প্রথমবারের মতো ভোটে লড়ে দুটি আসনেই জয়ী হন তারেক রহমান। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, সেটিও প্রথমবার। গত ৫ মাস তার নেতৃত্বেই চলেছে বাংলাদেশ, চলবে আগামী ৫ বছর।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব