স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের টঙ্গীতে সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধের জেরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার হামলায় জুলাই যোদ্ধা মো. বাবলু হোসেন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শিবলুর বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা হয়েছে।
গত ১৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার পূর্ব আরিচপুর জামাই বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত বাবলু হোসেন ওই এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই এলাকার বাসিন্দা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মো. শিবলুর সঙ্গে বাবলু হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ঘটনার দিন সকালে শিবলু বাবলুকে বাড়ি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে তাকে গালিগালাজ করে মারধর শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে শিবলু কাঠের লাঠি দিয়ে বাবলু হোসেনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়েও হামলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। স্থানীয়রা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করলেও অভিযুক্তের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পাননি বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত বাবলু হোসেনকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত শিবলু আগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যুর দিন অভিযুক্তের বাসায় মদের আসর বসিয়ে পার্টি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় বাবলু হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার পরও তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব