ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গত সোম ও মঙ্গলবার সদর, পীরগঞ্জ এবং রাণীশংকৈল উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট থানা–পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে অপমৃত্যুর এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২১ জুলাই দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার টাঙ্গন নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নামেন উত্তর মালঞ্চা গ্রামের মহাদেব চন্দ্র রায় (২৩)। একপর্যায়ে সাঁতরে নদী পার হওয়ার সময় নদীর মাঝপথ থেকে ফিরে আসার সময় পানিতে ডুবে যান তিনি। খবর পেয়ে বিকেল সোয়া তিনটার দিকে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আমবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেন।
একই সময়ে ও আগের দিন রাণীশংকৈল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুই শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়। ২০ জুলাই সন্ধ্যায় টেকিয়া মহেষপুর গ্রামের ছয় বছরের শিশু ফয়সাল আলী বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রতিবেশী রবিউল ইসলামের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করেন স্বজনেরা।
অন্যদিকে ২১ জুলাই বিকেলে একই উপজেলার ঘনশ্যামপুর গ্রামে বাড়ির পাশের ডোবায় অসাবধানতাবশত পড়ে যায় পাঁচ বছরের শিশু সনাতন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খেলাধুলার একপর্যায়ে শিশুটি ডোবার পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়।
এর আগে ২০ জুলাই সকালে সদর উপজেলার কাচনা গ্রামে বজ্রপাতে ফজলুল করিম (৪০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। সকালে পাশে হরিন্দা গ্রামে পাওয়ার টিলার দিয়ে নিজের জমিতে হাল চাষ করার সময় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে পিঠ ও কাঁধে জখমপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
চার নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেই কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং কোনো প্রকার সন্দেহ না থাকায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর ও দাফন-সৎকারের অনুমতি প্রদান করে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব