মো. শহীদুল ইসলাম (ফেনী): ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী মুন্সিরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ জামমুড়া গ্রামের কৃষক মো. জাফর আহমেদ গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রচলিত শীতকালীন মৌসুমের বাইরে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উপজেলা কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তায় টমেটো চাষ করে এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন তিনি।
নিজ বাড়ির পাশের ২০ শতক উঁচু জমিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বারি টমেটো-৮ জাতের টমেটোর আবাদ করেছেন জাফর আহমেদ। বর্তমানে গাছে প্রচুর ফুল এসেছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যে ফল সংগ্রহ শুরু হবে বলে আশা করছেন তিনি।
গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে তিনি মালচিং পেপার, হলুদ আঠালো ফাঁদ (ইয়েলো স্টিকি ট্র্যাপ), জৈব বালাইনাশক এবং আধুনিক পরিচর্যা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে আগাছা দমন, ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ এবং রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ উপায়ে টমেটো উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
কৃষক জাফর আহমেদ বলেন, বর্তমানে বাজারে টমেটোর দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় ভালো লাভের আশা করছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “অনেকে মনে করেছিলেন গরমের সময় টমেটো হবে না। কিন্তু কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় গাছে প্রচুর ফুল এসেছে। বাজারদর ভালো থাকলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করব।”
তিনি জানান, ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলমের উদ্যোগে রংপুর অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা গ্রাফটিং পদ্ধতির ৭০০টি টমেটোর চারা তিনি পান। চারা রোপণের প্রায় ৩০ দিনের মধ্যেই গাছে ফুল আসে, যা গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
শুধু টমেটো নয়, একই মৌসুমে নিজ অর্থায়নে ১৫ শতক জমিতে মরিচ এবং আরও ১৫ শতক জমিতে করলার চাষ করেও তিনি লাভবান হয়েছেন। তাঁর মতে, পরিকল্পিতভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের সবজি চাষ করলে সীমিত জমি থেকেও ভালো আয় করা সম্ভব।
স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, জাফর আহমেদের এ উদ্যোগ আশপাশের কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বাড়ির পাশের উঁচু জমিকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মৌসুমের বাইরে সবজি চাষ করেও সফল হওয়া সম্ভব।
ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিকে আরও লাভজনক করতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করছে। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে গ্রাফটিং চারা, মালচিং পেপার, হলুদ আঠালো ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বাজারমূল্য সাধারণত শীতকালীন টমেটোর তুলনায় বেশি থাকে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ ধরনের চাষাবাদ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, ফসলের বহুমুখীকরণ এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে এটি বছরব্যাপী দেশের টমেটোর চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব