স্পোর্টস ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কার স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রির হাতে উঠলেও ভিন্ন মূল্যায়ন দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)। সংস্থাটি তাদের নিজস্ব পরিসংখ্যানভিত্তিক মূল্যায়নে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেই ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত করেছে।
এক বিবৃতিতে আইএফএফএইচএস জানায়, তাদের ‘পারফরম্যান্স ইনডেক্স’ অনুযায়ী ম্যাচ রেটিং, গোল, অ্যাসিস্ট, নকআউট পর্বে প্রভাব, কঠিন মুহূর্তে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় মেসিই সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন।
সংস্থাটির দাবি, এই মূল্যায়ন কোনো আবেগ বা জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নয়; বরং বিশ্বকাপে প্রতিটি খেলোয়াড়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে মেসি করেছেন ৮ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল। আর্জেন্টিনার মোট ১৯ গোলের মধ্যে ১২টিতেই সরাসরি অবদান ছিল তার। পুরো আসরে তার গড় ম্যাচ রেটিং ছিল ৮.৩৩।
আইএফএফএইচএসের ভাষ্য, গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত মেসি ধারাবাহিকভাবে উচ্চমানের পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে নকআউট পর্বে তার নেতৃত্ব, গোল ও সৃষ্টিশীলতা আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংস্থাটির মতে, বিশ্বকাপে একজন ফুটবলারের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণে নকআউট পর্বের পারফরম্যান্স সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
তবে ফিফার মূল্যায়নে গোল্ডেন বল জেতেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। পুরো টুর্নামেন্টে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ, বল দখল, পাসিংয়ের নিখুঁততা এবং দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাকে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রদ্রি পুরো টুর্নামেন্টে ৬৯২টি সফল পাস দিয়েছেন, যেখানে মেসির সফল পাস ২৯৩টি। পাস সফলতার হারেও এগিয়ে ছিলেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার—রদ্রির ৯৪ শতাংশের বিপরীতে মেসির ছিল ৮৩ শতাংশ।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দুই খেলোয়াড়ের মূল্যায়নের ভিত্তি এক নয়। ফিফা দলীয় সাফল্য, কৌশলগত প্রভাব ও সামগ্রিক অবদানকে গুরুত্ব দিলেও আইএফএফএইচএস ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিভিন্ন পরিসংখ্যানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ফলে এক সংস্থার কাছে রদ্রি এবং অন্য সংস্থার কাছে মেসি সেরা হওয়ায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
যদিও আইএফএফএইচএসের এই স্বীকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার গোল্ডেন বলের বিকল্প নয়, তবু বিশ্ব ফুটবলে পরিসংখ্যানভিত্তিক মূল্যায়নের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে সংস্থাটির এই ঘোষণা।