আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাজারে প্রতিযোগিতা ব্যাহত এবং নিজস্ব সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগে অ্যালফাবেটের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গুগলকে মোট ৮৯ কোটি ইউরো (প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইউরোপীয় কমিশন এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
ইউরোপীয় কমিশন জানায়, ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) লঙ্ঘনের দায়ে গুগলের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে সার্চ রেজাল্টে নিজেদের শপিং, হোটেল, ভ্রমণ ও ক্রীড়াবিষয়ক সেবাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগে ৪৬ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গুগল প্লে স্টোরের নীতিমালার কারণে অ্যাপ ডেভেলপাররা ব্যবহারকারীদের বিকল্প অ্যাপ স্টোর বা কম মূল্যের অফারের তথ্য দিতে না পারায় আরও ৪৩ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের ভাষ্য, ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের অধীনে গুগলের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। তবে প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের অভিযোগে গত প্রায় দুই দশকে গুগলের বিরুদ্ধে এটি পঞ্চম ও ষষ্ঠ জরিমানা। ফলে ইউরোপে প্রতিষ্ঠানটির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮ কোটি ইউরো।
তবে কমিশন জানিয়েছে, আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে গুগল সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অগ্রগতি দেখিয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতে নতুন শাস্তি এড়ানোর সুযোগও রয়েছে, যদি প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারে।
ইইউর প্রতিযোগিতা বিষয়ক প্রধান তেরেসা রিভেরা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দায়িত্ব হলো নিজস্ব আইন কার্যকর করা এবং প্রযুক্তি খাতে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে প্রযুক্তিবিষয়ক কমিশনার হেন্না ভিরকুনেন বলেন, ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের মূল লক্ষ্য হলো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা।
কমিশন গুগলকে ৬০ দিনের মধ্যে সার্চ ফলাফলে বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করা এবং গুগল প্লে স্টোরের নীতিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
তবে ইউরোপীয় কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
গুগলের বৈশ্বিক বিষয়ক প্রেসিডেন্ট কেন্ট ওয়াকার এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন করতে গেলে ইউরোপের ব্যবহারকারীদের জনপ্রিয় রিয়েল-টাইম সার্চ সুবিধা, যেমন হোটেল, ফ্লাইট ও রেস্তোরাঁর তাৎক্ষণিক মূল্য ও প্রাপ্যতার মতো সেবা সীমিত করতে হতে পারে। একই সঙ্গে গুগল প্লে স্টোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে কিছু অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ইউরোপের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি