মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা-রাজবাড়ী মহাসড়কের পাশে ৬১ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক চালক বিশ্রামাগার ও ট্রাক টার্মিনালটি গত সাত বছরেও চালু না হওয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে ভূতুড়ে জনপদে পরিণত হয়েছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং দূরপাল্লার চালকদের নিরাপদ বিশ্রামের লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত এই বিশাল অবকাঠামোটি এখন ঝোপঝাড় আর আগাছায় ঢেকে যাচ্ছে। দীর্ঘ সাত বছর পার হলেও আলোর মুখ দেখেনি সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুবিশাল ট্রাক পার্কিং ইয়ার্ডটি খাঁ খাঁ করছে। বহুতল বিশ্রামাগার ভবনের জানালা-দরজা বন্ধ। চারপাশ যেন এক অপরাধের চারণভূমি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় এটি নির্জন থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায় এবং মাদকসেবী ও বখাটেদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়। পাশে একটি অসম্পূর্ণ ভবনের কংক্রিট কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে ধীরগতির কাজের নীরব সাক্ষী হয়ে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় দেশের চারটি মহাসড়কে আধুনিক টার্মিনাল ও চালক বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে মাগুরায় ৬৭টি ট্রাক পার্কিং সুবিধা এবং ৫২ শয্যার অত্যাধুনিক চালক বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ৬.৫৭৭ একর জমি অধিগ্রহণে ২৩ কোটি ৯০ লাখ এবং ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে ৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরও আলোর মুখ দেখেনি প্রকল্পটি। ফলে ধ্বংস হতে চলেছে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প।
স্থানীয় ট্রাকচালক ও শ্রমিকরা জানান, এই রুটে প্রতিদিন শত শত ট্রাক চলাচল করে। অথচ পার্কিং সুবিধা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে চালকেরা বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশে ট্রাক দাঁড় করাচ্ছেন, যা যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ বলেন, “আমি সবে মাত্র কয়েক দিন হলো যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার তেমন কিছুই জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব