মেহেরপুর প্রতিনিধি: সবজির জেলা হিসেবে পরিচিত মেহেরপুরে হঠাৎ করেই বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম। টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় মাঠের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাবে কাঁচা মরিচ ও বেগুনসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। প্রতি কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
শনিবার মেহেরপুর শহরের বড় বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে উঠেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। অর্থাৎ কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
বাজারে বর্তমানে গাজর ১২০, টমেটো ১৬০, শসা ৮০, উচ্ছে ৭০, করলা ৭০ এবং ঢেঁড়শ ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল, কচু, চিচিঙ্গা, পেঁপে ও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকা কেজি দরে। ৫০ টাকার নিচে হাতে গোনা কয়েকটি সবজি ছাড়া অধিকাংশ সবজিই এখন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
মেহেরপুর বড় বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রমজানুল করিম বলেন, টানা বৃষ্টির পর প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। মেহেরপুরে প্রচুর সবজি উৎপাদন হলেও হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ খান বলেন, বাজারে ঢুকলেই প্রতিটি সবজির দাম শুনে হতাশ হতে হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ২০০ টাকার ওপরে এবং বেগুন ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। ফলে প্রতিদিনের বাজার খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বড় বাজারের মিয়ারুল সবজি ভান্ডারের ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, অতিবৃষ্টিতে জমিতে থাকা অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে মূলত মাচায় চাষ করা সবজিই বাজারে আসছে। ফলে মোকামে চাহিদা অনুযায়ী সবজি সরবরাহ হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাইকারি বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা কম।
খুচরা বিক্রেতা আলামিন হোসেন বলেন, আড়ত থেকে বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা আগের তুলনায় কম সবজি কিনছেন। এতে বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি অবিক্রীত পণ্য নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীদের লোকসানও হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু মেহেরপুর বড় বাজার নয়, গাংনী ও মুজিবনগরের হাট-বাজারেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। টানা বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি ও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়াকেই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের আশঙ্কা, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া এবং নতুন করে মাঠের সবজি বাজারে না আসা পর্যন্ত সবজির এই চড়া দাম অব্যাহত থাকতে পারে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি