স্পোর্টস ডেস্ক: স্পেনের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশটির রাজকুমারী প্রিন্সেস লিওনর ও জাতীয় দলের তরুণ মিডফিল্ডার পাবলো গাভিকে ঘিরে পুরোনো এক গুঞ্জন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথিত সম্পর্ক নিয়ে নানা পোস্ট, মিম ও কল্পনাপ্রসূত গল্প ছড়িয়ে পড়লেও এ দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।
গাভি-লিওনরকে ঘিরে গুঞ্জনের সূত্রপাত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়। তখন কয়েকটি স্প্যানিশ গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, প্রিন্সেস লিওনরের স্কুলের একটি খাতার কভারে গাভির ছবি ছিল। তবে এ দাবির সত্যতা কখনো নিশ্চিত হয়নি।
এরপর স্পেন দলের ড্রেসিংরুমে গাভির একটি স্বাক্ষর করা জার্সি দেশটির রাজা ষষ্ঠ ফেলিপের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। জার্সিটি রাজার জন্য তুলনামূলক ছোট হওয়ায় অনেকে অনুমান করেন, সেটি হয়তো রাজকুমারী লিওনরের জন্য উপহার ছিল। তবে এই ধারণার পক্ষেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর মাদ্রিদে জন্ম নেওয়া লিওনর দে বোরবোন ই অর্তিজ রাজা ষষ্ঠ ফেলিপ ও রানি লেতিসিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। ২০১৪ সালে ফেলিপ সিংহাসনে বসার পর লিওনর স্পেনের সিংহাসনের প্রথম উত্তরাধিকারী হন। ২০২৩ সালে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর দেশটির পার্লামেন্টে সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের শপথ নেন তিনি।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার হয়ে উঠে আসা গাভি স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম পরিচিত তরুণ খেলোয়াড়। জাতীয় দলের জার্সিতে তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নানা আলোচনা দেখা যায়।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে ‘লা রোহা’। এরপরই এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাভি ও লিওনরকে নিয়ে পুরোনো আলোচনা ফের ভাইরাল হয়।
কেউ মজা করে গাভিকে ‘ভবিষ্যৎ রাজা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ তাদের বিয়ের সম্ভাবনা নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। এসব পোস্টের বেশির ভাগই মিম, রসিকতা ও ভক্তদের কল্পনাপ্রসূত ‘ফ্যান ফিকশন’।
তবে বাস্তবতা হলো, গাভি কিংবা প্রিন্সেস লিওনর—কেউই কখনো তাদের মধ্যে প্রেম বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কোনো ইঙ্গিত দেননি। তাদের সম্পর্ক নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
তাই স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর গাভি-লিওনরকে ঘিরে নতুন করে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটি আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুঞ্জন ও ভক্তদের কল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি