খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় রান্নার পর গরুর মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক বাজারে মাংস বিক্রিও কিছুটা কমেছে। মাংস কিনতে এসে অনেকে নানা প্রশ্ন করছেন, আবার কেউ কেউ সন্দেহের কারণে মাংস না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
গত বুধবার (২২ জুলাই) পাইকগাছা পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য গরুর মাংস কিনে রান্না করেন। রান্নার সময় মাংসের রং সবুজ হয়ে যায়। পরে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
রোববার (২৬ জুলাই) খুলনার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে এমনিতেই বাজারে মাংসের বিক্রি কিছুটা কম। এর মধ্যে পাইকগাছার ঘটনায় ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ময়লাপোতা মোড়ের মাংস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম বলেন, বৃষ্টির কারণে আগের তুলনায় বিক্রি কমেছে। পাইকগাছার ঘটনার পর ক্রেতারা মাংস নিয়ে নানা প্রশ্ন করছেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো শুনিনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। কারণ, ঘটনার কারণ জানা না গেলে মানুষের আতঙ্ক কাটবে না।’
নতুন বাজারের ব্যবসায়ী নাদিম ঘোরি বলেন, নগরীতে নির্দিষ্ট স্থানে গরু জবাই করা হয় এবং অসুস্থ পশু জবাই করার সুযোগ নেই। কোনো ব্যবসায়ী খারাপ মাংস বিক্রি করতে চাইবেন না, কারণ এতে ক্রেতা হারানোর আশঙ্কা থাকে। তবে পাইকগাছার ঘটনার পর মাংসের বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা গেলে ক্রেতাদের ভয়ও কমবে।
চাকরিজীবী মাহবুব আলম বলেন, খাবারে ভেজাল নিয়ে নানা খবরের কারণে মাংস সবুজ হওয়ার ঘটনা শুনে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি বলেন, বিষয়টি রাসায়নিক ব্যবহার, সংরক্ষণ বা অন্য কোনো কারণে হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া দরকার। এ কারণে তিনি গত শুক্রবার গরুর মাংস কেনেননি।
নতুন বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শাকিরুন আক্তার বলেন, আগে মাসে দুই-তিনবার গরুর মাংস কিনতেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার ভিডিও দেখার পর পরিবারের সদস্যরা মাংস কিনতে নিষেধ করছেন। তাঁর ভাষায়, ‘দাম বেশি, তার ওপর এখন মাংস নিরাপদ কি না—সেটি নিয়েও ভয় লাগছে।’
এদিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নমুনা সংগ্রহ করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো তাঁদের নজরে আসেনি। কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। আলোচনা করে পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত ল্যাব নির্ধারণের পর নমুনাগুলো সেখানে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, মাংস সবুজ হওয়ার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ল্যাব পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি