ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারতে টানা কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের একদিন পর নতুন বার্তা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দিপকে।
রোববার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটা কেবলই শুরু। আমাদের সামনে এখনও অনেক দীর্ঘ পথ বাকি।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ার পর আপাতত কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এ আন্দোলনের নেতা।
ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ বলেন, দীর্ঘদিন পর তিনি মানসিক চাপমুক্তভাবে ঘুমাতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, ‘এখন আর প্রতিদিন রাতে এই চিন্তা নিয়ে ঘুমাতে যেতে হচ্ছে না যে, আগামীকাল কী হবে বা সন্ধ্যার মধ্যে কী ঘটবে। অনেক দিন পর নিজের ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুম থেকে উঠতে পেরেছি।’
আন্দোলনের গত ৩৭ দিনকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি দিন ছিল অনিশ্চয়তা ও চাপের।
তবে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আন্দোলনের এই সাফল্যকে শেষ নয়, বরং নতুন যাত্রার শুরু হিসেবে দেখতে হবে।
তার ভাষায়, ‘এটা কেবলই শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির সামনে আরও অনেক পথচলা বাকি।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করে গত মে মাসে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠন করেন অভিজিৎ দিপকে। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি দেশটির তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ নেয়।
হাজার হাজার সমর্থক রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকায় অবস্থান নিয়ে টানা আন্দোলন চালিয়ে যান। সেখানে আন্দোলনকারীদের স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চাকরিপ্রার্থীদের হতাশার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান রাজনৈতিকভাবে দায়ী। তার পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন আরও জোরালো হয় এবং সরকারের বিলম্বিত অবস্থানের কারণে প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ এতে যোগ দেন।
শেষ পর্যন্ত শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিলে ককরোচ জনতা পার্টি তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দিপকে বলেন, এ সাফল্যের পেছনের পথ মোটেও সহজ ছিল না। নানা ধরনের সমালোচনা, সন্দেহ ও চাপের মধ্য দিয়েই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হয়েছে।
তিনি জানান, টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ায় এবং জ্বরে ভোগার কারণে আগের দিন যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়ে সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘যারা টানা ৩৭ দিন যন্তর মন্তরে অবস্থান করেছেন, তাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনারা দেশের জন্য যা করেছেন, তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’
সমর্থকদের পাশাপাশি সমালোচকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, গঠনমূলক সমালোচনা ও বিভিন্ন প্রশ্ন তাকে নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ করে দিয়েছে।
অভিজিৎ বলেন, ‘আমি মনে করি, সেই সমালোচনাগুলোই আমাদের আরও শক্তিশালী করেছে এবং শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে সহায়তা করেছে।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব