আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি। তাঁর দাবি, ইরানবিরোধী সংঘাত ও ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, অর্থনীতি ও জাতীয় সম্পদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ম্যাসি বলেন, ইসরায়েলকে সহায়তা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, তেলের মজুতের ওপর চাপ বেড়েছে এবং সরকারের ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়েছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।
ম্যাসি আরও অভিযোগ করেন, সংঘাতের প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে মার্কিন সেনাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বিদেশি সংঘাতে বিপুল অর্থ ও সামরিক সম্পদ ব্যয় করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনীতি, অবকাঠামো ও নাগরিকদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
সম্প্রতি ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতেও সক্রিয় হয়েছেন ম্যাসি। ১৫ জুলাই মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে তিনি ইসরায়েলের জন্য প্রস্তাবিত ৩৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের একটি সংশোধনী প্রস্তাব দেন। তবে ১০৪-৩১৪ ভোটে তা প্রত্যাখ্যাত হয়।
এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের হিসাবে, সংঘাতের কয়েক মাসে টমাহক, প্যাট্রিয়ট, এসএম-৩, এসএম-৬ ও থাডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যবহার করা হয়েছে।
ম্যাসির বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরোধিতা বাড়ছে। ২৩ জুলাই প্রতিনিধি পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বন্ধে একটি যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত প্রস্তাব ২১৪-২০৮ ভোটে পাস হয়। ম্যাসিও ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।