স্টাফ রিপোর্টার: টুথপেস্টের টিউবের নিচে থাকা সবুজ, নীল, লাল বা কালো রঙের ছোট দাগ দেখে এর ভেতরের উপাদান সম্পর্কে ধারণা করা যায়—এমন একটি তথ্য দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আছে। তবে এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। টিউবের নিচের এসব রঙিন চিহ্নের সঙ্গে টুথপেস্টের উপাদান, মান বা স্বাস্থ্যগত বৈশিষ্ট্যের কোনো সম্পর্ক নেই।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা প্রচলিত দাবিতে বলা হয়, সবুজ দাগ মানে টুথপেস্ট সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, নীল মানে প্রাকৃতিক ও ওষুধযুক্ত, লাল মানে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ এবং কালো দাগ মানে সম্পূর্ণ রাসায়নিক উপাদান। তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেক সংস্থা জানিয়েছে।
মূলত টিউব তৈরির সময় এসব দাগকে ‘আই মার্ক’ (Eye Mark) হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্যাকেজিং মেশিনে থাকা অপটিক্যাল সেন্সর এই চিহ্ন শনাক্ত করে টিউবের কোথায় কাটিং, ভাঁজ বা সিল করতে হবে, তা নির্ধারণে সহায়তা করে। ফলে টিউবের নকশা ও প্যাকেজিং নির্দিষ্ট অবস্থানে রাখার কাজটি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনও জানিয়েছে, টুথপেস্টের টিউবের নিচের রঙিন দাগের সঙ্গে এর উপাদানের কোনো সম্পর্ক নেই। টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোলগেটও বলেছে, এসব চিহ্ন কোনো ‘কালার-কোডিং সিস্টেম’ নয়; উৎপাদন ও প্যাকেজিং প্রক্রিয়ার প্রয়োজনেই এগুলো ব্যবহার করা হয়।
ফ্যাক্ট-চেক সংস্থা স্নোপস ও এএফপি ফ্যাক্ট-চেকও টুথপেস্টের রঙিন দাগ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া দাবিটিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্যাকেজিং বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, মেশিনের সেন্সর মূলত চিহ্নের রং নয়, বরং প্যাকেটের পটভূমি ও চিহ্নের মধ্যে আলোর তীব্রতার পার্থক্য শনাক্ত করে। এই সংকেতের ভিত্তিতেই মেশিন টিউবের অবস্থান নির্ধারণ করে।
এ চিহ্নের রংও নির্দিষ্ট নয়। প্যাকেজিংয়ের ধরন, মেশিন ও সেন্সরের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রং ব্যবহার করা হতে পারে। তাই সবুজ, নীল, লাল বা কালো—কোনো রঙেরই নির্দিষ্ট উপাদানগত অর্থ নেই।
এ ছাড়া ‘প্রাকৃতিক’ ও ‘রাসায়নিক’কে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখানোর ধারণাটিও বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। কারণ প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া উপাদানও রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। ফলে টুথপেস্টের টিউবের নিচের কালো দাগকে ‘সম্পূর্ণ রাসায়নিক’ পণ্যের সংকেত বলা বৈজ্ঞানিকভাবে অযৌক্তিক।
উপাদান জানতে যা করবেন: টুথপেস্টে কী রয়েছে তা জানতে টিউব বা প্যাকেটের গায়ে থাকা উপাদানের তালিকা পড়তে হবে। সাধারণত টুথপেস্টে গ্লিসারল ও সরবিটলের মতো উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা পেস্টকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। দাঁতের ময়লা ও খাবারের কণা দূর করতে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট বা সিলিকার মতো ঘষণকারী উপাদানও থাকতে পারে।
তাই টুথপেস্ট কেনার সময় টিউবের নিচের রঙিন দাগ নয়, বরং পণ্যের অনুমোদন, মেয়াদ, উপাদানের তালিকা ও নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা উচিত। দাঁত বা মুখের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো বিশেষ সমস্যা থাকলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।