কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে সরকারি পানি নিষ্কাশনের নালা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প পথে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিতে গেলে গ্রামবাসীর ওপর মরিচ, হলুদ ও পাথরের গুঁড়ো নিক্ষেপসহ অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এলাকাবাসী ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪ নম্বর পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হেলিপ্যাড রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় সরকারি খাস জমির ওপর অবস্থিত শতবর্ষী একটি পানি নিষ্কাশন নালার ওপর স্থানীয় আব্দুস সোবাহান ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে নালার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এতে শতাধিক বসতবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা কৃষিজমির ফসল ক্ষতির মুখে রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় ৫ থেকে ৭টি দিঘির মাছ বের হয়ে গেছে এবং প্রায় ৪০০টি সুপারি গাছ মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, যার আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ২৫ লাখ টাকা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এলাকা পরিদর্শন করে সরকারি খাস জমি পুনরায় পরিমাপের নির্দেশ দেন। পরিমাপ শেষে সংশ্লিষ্ট নালাটি সরকারি খাস জমির অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয় বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। এরপর অভিযুক্তরা নালা খুলে দেওয়ার জন্য দুই দিনের সময় নিলেও নির্ধারিত সময়ে তা বাস্তবায়ন করেননি বলে অভিযোগ।
এরপর জলাবদ্ধতা নিরসনে এলাকাবাসী আফসার আলীর সম্মতি নিয়ে তাঁর বাড়ির পাশ দিয়ে বিকল্প পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুস ছালামের পরিকল্পনায় আব্দুস সোবাহান, ছামাদ, আমিনুর রহমান, মমিনুর রহমানসহ আরও কয়েকজন নারী-পুরুষের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা ইট-পাটকেল, মরিচের গুঁড়ো, হলুদের গুঁড়ো ও পাথরের গুঁড়ো নিক্ষেপ করে এবং ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে প্রায় ৫০ জন নারী-পুরুষ আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিচার এবং দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে এলাকাবাসী ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তারা সরকারি খাস জমি উদ্ধার, পানি নিষ্কাশনের নালা উন্মুক্ত করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব