মেহেরপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সংগঠনক (দক্ষিণ) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন ফেসবুক লীগ, স্ট্যাটাস লীগ ও টেলিগ্রাম লীগে চলে গেছে। আমাদের প্রজন্মের একটা সফলতা যারা অন্তত মৃত্যু পর্যন্ত বলতে পারবে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত দাবিদার একটি রাজনৈতিক দলকে টেলিগ্রাম লীগে পরিণত করেছে। ট্যাঙ্ক, কামান, গোলাবারুদ পাশ্ববর্তী দেশ, বিদেশী শক্তি, অর্থ কোন কিছুই এই দলটার পতন ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, পালিয়ে যাব না বলে যে পালিয়ে যায়, সে আসি আসি বলে কখনও আসবে না। ওখান থেকে আসার কথা বলে নেতাকর্মীদেরকে বের করবে আর তারা গণপিটুনি খাবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে মেহেরপুরের গাংনী বাসস্ট্যান্ডে বিচার, সংস্কার ও দেশ পুনর্গঠনের দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ সমাবেশে বক্তৃতায় তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
বক্তৃতায় তিনি শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধেও সমালোচনা করেন। মন্ত্রীকে সাইকো উপাধি দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে ক্ষমা চাইবেন আবার শিক্ষকদের বদলি করে প্রতিশোধও নেবেন। মন্ত্রনালয় ও প্রশাসনের ব্যার্থতা কলেজের নিরিহ শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। বদলি করেছেন অন্যত্রে।
তিনি আরো বলেন, আমরা আপনার অতীত জানি, আপনার পরিবারের দুর্নীতি সম্পর্কে জানি। আবার নিজেদের ছেলেকে বিদেশে পাড়লেখা করান, আর আমাদের উপদেশ দেন নেতাদের পিছনে রাজনিতি করার। সালাউদ্দীন আহম্মেদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গত ১৭ বছরে তার সম্পদ কমেনি। আগের চাইতে ২৫ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। আসলে বিএনপি কোন নিরপেক্ষতা চায়না। বরং তারা আওয়ামী লীগের মতো দখলদার রাজনীতি করতে চায়।
তরুণ প্রজন্মের বাস উপযোগী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহবান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণ) ডাঃ মাহমুদা মিতু- এমপি, যুগ্ম আহবায়ক নুসরাত তাবাসুম এমপি, আলী আহসান জুনায়েদ, সরওয়ার তুষার এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মূখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চুয়াডাঙ্গার পদযাত্রা শেষে মেহেরপুরের গাংনীতে পৌছায় এনসিপির গাড়ীবহর। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা।
এর আগে সকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পোস্টার সম্বলিত কুশপুত্তলিকা এবং দুপুরে সমাবেশস্থল থেকে বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধারের পর নানা শংকা সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব