স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দৌড় থেমেছিল শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে। নেইমার জুনিয়রের একমাত্র গোলটি কেবল সেলেসাওদের হারের ব্যবধান কমিয়েছে। এরপরই কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়া এই তারকা অবসরের ইঙ্গিত দেন। তবুও যদি-কিন্তু মেলাচ্ছেন অনেকে। নেইমার অবশ্য নিজের পুরোনো সিদ্ধান্তেই অটুট, জানিয়েছেন জাতীয় দলে তার অধ্যায় শেষ।
গতকাল (মঙ্গলবার) কোপা সুদামেরিকানায় ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে সান্তোস। এরপর মিক্সড জোনো জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন নেইমার। এ সময় ৩৪ বছর বয়সী তারকা বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, অনেক ভালো মুহূর্ত পেয়েছি। হলুদ জার্সির জন্য নিজের রক্ত, জীবন সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখন আর চালিয়ে যেতে চাই না।’
এমন ঘোষণা মূলত ব্রাজিলের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার অধ্যায়ে চূড়ান্ত সীলমোহর দিয়ে দিলো। ফলে এখন কেবল নিজের ক্লাব ক্যারিয়ারেই মনোযোগ দিতে পারবেন নেইমার। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে তিনি ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৯ অ্যাসিস্ট করেছেন। এর আগে ২০১০ সালে ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে তিনি মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রথমবার ব্রাজিল সিনিয়র দলের হলুদ জার্সি গায়ে জড়ান। সেখানেই দিয়েছিলেন বিদায়ের ইঙ্গিত।
শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হওয়ার পর নেইমার ব্রাজিলের গ্লোভো টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটেছে। এখন সব শেষ। আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমার একমাত্র শিরোপা জিতেছিলেন ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপে। এ ছাড়া ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব–২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক। অপূর্ণ রইলো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। কিছুদিন আগে তার ২০৩০ বিশ্বকাপ খেলার গুঞ্জন ছড়ালেও, তা যে সত্যি নয় সেটাই প্রমাণ হলো নেইমারের সর্বশেষ মন্তব্যে।
এদিকে, সম্প্রতি চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে সান্তোসের ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে তরুণ সতীর্থদের ভর্ৎসনা করার অভিযোগ ওঠে নেইমারের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে তিনি বলেন, এসব সম্পূর্ণ মনগড়া গল্প। ইচ্ছাকৃতভাবে এমন খবর ছড়ানো হচ্ছে। ম্যাচের পর আমি শুধু বলেছিলাম, আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে। এভাবে সহজে জয় হাতছাড়া করা যায় না। অধিনায়ক হিসেবে এসব বলা আমার দায়িত্ব। অন্য সতীর্থরাও (লুকাস ভেরিসিমো ও গাবিগোল) একই কথা বলেছিল।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম