মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্প নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হওয়ার পর সাশ্রয় হওয়া ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, সেচ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় গাজীখালী নদীর সংযোগস্থল থেকে হরিগঞ্জ হয়ে ভেউরাপাড়া সুইচগেট পর্যন্ত প্রায় ৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চন্দ্রখালী খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৬২৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পে ৬৫৪ জন শ্রমিকের জন্য বরাদ্দ থাকলেও কাজ করেন ৩৮৭ জন শ্রমিক। নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ হওয়ার পর ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা অব্যবহৃত থাকে। পরে সরকারি বিধি অনুযায়ী সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলাধার সংরক্ষণের লক্ষ্যে খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. খলিলুর রহমান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্ষাকালে কয়েকটি স্থানে পাড় ভেঙে গেলে তা দ্রুত মেরামত করা হয়। পাশাপাশি খালের স্থায়িত্ব নিশ্চিত ও পরিবেশ রক্ষায় দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাজী অনিক ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, “ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রখালী খালটি দীর্ঘদিন ধরে দখল, ভরাট ও নাব্যতা হারানোর কারণে প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল। খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সরকার পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। কাজের সময় দেখা যায়, কয়েকটি স্থানে প্রাক্কলনে উল্লেখিত প্রস্থের তুলনায় বাস্তব প্রস্থ কম। ফলে নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখেই তুলনামূলক কম ব্যয়ে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, এই পুনঃখননের ফলে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরে এসেছে। এতে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষিজমিতে সেচব্যবস্থা সহজ হবে এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রখালী খাল আবারও এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব