রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন নিরুৎসাহিত করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি নবজাতকদের জন্মের পর শালদুধ (কলোস্ট্রাম) খাওয়ানো এবং শিশুদের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (নিপসম)-এ গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের উচিত অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন নিরুৎসাহিত করা এবং মায়েদের স্বাভাবিক প্রসবের বিষয়ে সচেতন করা। পাশাপাশি সন্তান জন্মের পর শালদুধ খাওয়ানোর বিষয়ে পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে, কারণ এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে, যার অন্যতম কারণ পুষ্টিহীনতা। অতীতে হামে মৃত্যুর ঘটনা খুবই কম ছিল, কিন্তু এখন অনেক শিশু জন্মের পর শালদুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক মা নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ান না, আবার অনেক শিশুই প্রয়োজনীয় সুষম খাবারও পায় না। ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সচেতন হতে হবে।
চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগাক্রান্ত মানুষের শেষ ভরসা চিকিৎসক। একজন চিকিৎসকের আন্তরিক আচরণ, মানবিক ব্যবহার এবং আশাব্যঞ্জক কথাও অনেক সময় রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ চিকিৎসকদের বিশেষ মেধা ও যোগ্যতা দিয়েছেন, তাই এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
দেশে যক্ষ্মা (টিবি) রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেখানেই ফিজিওথেরাপি সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে এবং এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম