স্টাফ রিপোর্টার: প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত যেসব বাংলাদেশি দেশে এসে ভিসা বাতিলের শিকার হয়েছেন বা ভুক্তভোগী হয়েছেন, তাদের সহায়তার জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি হটলাইন চালু করবে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতেও জরুরি সেবার জন্য পৃথক একটি হটলাইন চালু করা হবে।
এর মাধ্যমে সমস্যায় পড়া প্রবাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা প্রবাসী ভাই-বোনদের শুধু এটুকুই বলতে চাই, আপনাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই মানুষের প্রতি কতটা আন্তরিক, তা আপনারা দেখেছেন। প্রবাসীদের কিংবা দেশের যেকোনো সমস্যা অনেক সময় আমাদের নজরে আসার আগেই প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। ফলে তিনি সবসময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
আশা করছি, আজ দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে আমরা যেসব সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়েছি, তার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারব।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা দুটি বিষয়ে প্রচার করতে চাই, যাতে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মান, অবস্থান এবং শ্রমবাজার যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে জন্য প্রবাসীদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথমত, যেসব দেশে যুদ্ধ চলছে বা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট রয়েছে, সেসব দেশের বিষয়ে বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা বা কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ওইসব দেশের আইনেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই আমরা অনুরোধ করব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের কোনো কনটেন্ট পোস্ট না করতে।
নুরুল হক নুর বলেন, আমাদের দেশের দুই-একজন হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অপরাধ করে থাকে। কিন্তু তাদের কারণে পুরো দেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। যেমন, অনেকেই জাল নথিপত্র জমা দেন। আজকের বৈঠকে আমরা আলোচনা করেছি, জাল নথিপত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে। এখন থেকে যেখানেই জাল নথিপত্র ধরা পড়বে, সেখানেই তা জব্দ করা হবে। যারা এসব নথি জমা দেবে বা এর সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে আরও কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে বিদেশি অংশীদারদের কাছে স্পষ্ট বার্তা যায় যে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থেই এসব আইন করা হয়। তাই আমাদের অংশীদার দেশগুলো যেন বুঝতে পারে, অপরাধ দমনে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব