রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাশিয়ায় উদ্ভাবিত একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক (পারসোনালাইজড) এমআরএনএভিত্তিক ক্যানসার টিকা প্রথমবারের মতো এক রোগীর শরীরে ইতিবাচকভাবে কাজ করছে বলে দাবি করেছেন দেশটির গবেষকরা। তাদের ভাষ্য, টিকা প্রয়োগের পর রোগীর শরীরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, এ তথ্য দিয়েছেন গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেক্সান্দর গিনজবার্গ। প্রতিষ্ঠানটি টিকাটি তৈরির গবেষণায় অংশ নিয়েছে।
গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্যানসার চিকিৎসার অনুমোদন দেয়। এর একটি নিওঅনকোভ্যাক, যা উন্নত পর্যায়ের মেলানোমা ক্যানসারের জন্য তৈরি এমআরএনএভিত্তিক টিকা। অন্যটি অনকোপেপ্ট, যা কোলোরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি একটি পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ।
চলতি বছরের এপ্রিলে ৬০ বছর বয়সী এক রোগীকে প্রথমবারের মতো নিওঅনকোভ্যাক দেওয়া হয়। তিনি তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া (মেটাস্ট্যাটিক) ক্যানসারে আক্রান্ত। বর্তমানে তিনি মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
রুশ সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গিনজবার্গ বলেন, রোগী বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছেন এবং তার চিকিৎসা চলমান। পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোগীর শরীরে এমন রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, যা টিউমার ও শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করতে পারে।
গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোগীকে আরও দুটি ডোজ টিকা দেওয়া হবে। পুরো চিকিৎসাকালেই তার রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে আরও ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক মেলানোমা টিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে, যা আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন গিনজবার্গ।
ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্দ্রেই কাপরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ প্রযুক্তির লক্ষ্য শুধু ক্যানসারের চিকিৎসা নয়; বরং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তা নিজেই ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
গবেষকদের মতে, এই টিকা তৈরির জন্য রোগীর টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর নমুনার জিনগত বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য আলাদাভাবে টিকা তৈরি করা হয়, যা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনকোপেপ্ট গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পাশাপাশি গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যও নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে উল্লেখ্য, এটি গবেষকদের প্রাথমিক দাবি। টিকাটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহৎ পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং স্বাধীন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ফলাফল এখনও প্রয়োজন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম