ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, সোমবার (আজ) বিকেলেই এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হলে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়িয়ে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। তার ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সোমবার বিকেলে আলোচনা শুরু হবে।
তিনি বলেন, “আমি চাই বিষয়টির সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই হোক। এতে অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ এড়ানো যাবে এবং বহু মানুষের জীবন বাঁচবে। আমি একটি চুক্তি চাই, যুদ্ধ নয়।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের অগ্রগতির কারণে শুক্রবার পরিকল্পিত একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যকর আলোচনা পুনরায় শুরু করতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। এর লক্ষ্য, অন্তত ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং কোনো ধরনের ফি ছাড়া জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে যৌথ কার্যক্রমের প্রস্তুতি চলছে।
তবে আগের সমঝোতা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। কারণ, চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের ব্যাখ্যায় পার্থক্য ছিল। ট্রাম্পের দাবি ছিল, হরমুজ প্রণালি সবার জন্য স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত থাকবে। বিপরীতে ইরান বলেছে, প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন থাকবে।
পর্দার আড়ালে চলা কূটনৈতিক তৎপরতায় কাতার, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ হয়েছে। কাতারের কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, তেহরান প্রণালি-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। একই সময়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থেকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।
এরপর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এসব দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির সামরিক নেতারা তার বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তেহরানের প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যেও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব সংযমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরও কঠোর সামরিক অবস্থান নেওয়া উচিত।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ