ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: টানা পাঁচ মাস ধরে চলা তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে আসা একাধিক পরস্পরবিরোধী বার্তায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা বর্তমানে সচল রয়েছে। তেহরানকে একটি কার্যকর সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘পরমাণু ও নৌচলাচল বিবাধ মেটাতে এটিই ইরানের জন্য শেষ সুযোগ।’
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় রক্তপাত এড়াতে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলোর সরাসরি অনুরোধে এই কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।’
এর আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ইরানের ওপর পরিকল্পিত ‘ব্যাপক সামরিক হামলা’ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট ভাষায় জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো কূটনৈতিক আলোচনা হচ্ছে না। নিকট ভবিষ্যতেও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই।
তিনি আরও জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বর্তমানে ইরাকে ধর্মীয় সফরে রয়েছেন এবং ওমানের মধ্যস্থতায় কেবল হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত সীমিত কারিগরি বিষয় ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সার্বিক নীতিগত কোনো বার্তা আদান-প্রদান ঘটছে না।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানি নেতৃত্বকে ‘অত্যন্ত চতুর ও কপট’ হিসেবে বর্ণনা করে পুনরায় দাবি করেন, অদূর ভবিষ্যতেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি কিংবা পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো জ্বালানি বা পণ্য সরবরাহ সচল হবে না।’
পরস্পরবিরোধী এই বাক্যযুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী নৌপথে একটি পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু বা ড্রোনের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা কেপলার-এর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটিতে জাহাজ চলাচল অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার প্রণালিটি দিয়ে যাতায়াতকারী ছয়টি জাহাজের মধ্যে তিনটি ছিল ট্যাঙ্কার ও তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার। আগের দিনে এই জলপথ পাড়ি দিয়েছে সাতটি জাহাজ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক নৌপথকে সংকটে ফেলে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে তেহরান। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক মাইকেল নাইটস বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলাই এখন তেহরানের মূল রাজনৈতিক অস্ত্র।’ সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব