চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চট্টগ্রাম সফর নির্বিঘ্ন ও সফল করতে দিনরাত মাঠে কাজ করছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বাঁশখালীর পুনর্বাসন ঘর থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও হাটহাজারীর অনুষ্ঠানস্থল—সফরসূচির প্রতিটি স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রস্তুতি তদারকি করছেন তিনি।
আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের কথা রয়েছে। সফরকালে তিনি সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালী ও হাটহাজারীর মানুষের খোঁজখবর নেবেন। বাঁশখালীতে বন্যায় ঘর হারানো ১০০টি পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। হাটহাজারীতেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণ করবেন তিনি। সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও হাটহাজারীর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। বিমানবন্দরে তিনি ভিআইপি টার্মিনাল, রানওয়েসংলগ্ন এলাকা, নিরাপত্তাচত্বর ও প্রটোকল ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরে হাটহাজারীতে গিয়ে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন জেলা প্রশাসক। প্রধানমন্ত্রীর সফরসংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি। এরপর জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় গিয়ে সংস্কারকাজের অগ্রগতি, সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। সবশেষে হাটহাজারী সরকারি কলেজের অনুষ্ঠানস্থল ঘুরে মঞ্চ, অতিথিদের বসার ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকি করেন।
এর আগের দিন বুধবার বাঁশখালীতে দিনভর প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ, অতিথিদের বসার স্থান, নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন তিনি। পরে বৃষ্টি ও কাদা উপেক্ষা করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন পুনর্বাসন ঘর পরিদর্শন করেন জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি একটি জরাজীর্ণ ও আংশিক ভেঙে পড়া ঘরে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবারটি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন ঘরের চাবি পাবে।
নির্মাণাধীন ঘরগুলোর কাজের মান ও কাঠামোগত স্থায়িত্বও পরীক্ষা করেন জেলা প্রশাসক। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নির্মাণশ্রমিকদের মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি টিনের ঘরে দুটি কক্ষ থাকবে। ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। এর সঙ্গে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার থাকবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে চট্টগ্রামে আসছেন। তাঁর সফর নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পুরো দল কাজ করছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনসহ জেলা প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/নাঈম