কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা নগরীতে বৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এক ভারতীয় নাগরিককে মারধর করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিমের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ছিনতাইকারী ভেবে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন ভুক্তভোগী। তবে পরে CCTV ফুটেজে অভিযুক্তদের ডিবি পুলিশের সদস্য বলে শনাক্ত করার দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই ভারতীয় নাগরিক আলম কুমিল্লা কোতোয়ালী থানাধীন কান্দিরপাড় এলাকার হকার্স মার্কেটের নিচে অবস্থিত পানসি অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউজে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ৬-৭ জন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আলমের দাবি, তাঁর কাছ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ ভারতীয় রুপি, ১১ হাজার ৩০০ বাংলাদেশি টাকা এবং প্রায় এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার নেওয়া হয়।
ঘটনার পর তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। আলম জানান, তখন তিনি জানতেন না যে অভিযুক্তরা ডিবি পুলিশের সদস্য। তাই ছিনতাইকারী হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে ডিবি পুলিশের টিম লিডার তৌফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে প্রতিবেদকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি এবং একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, বিষয়টি ডিবির ওসিকে জানানো হয়েছে। কুমিল্লা জেলা ডিবির ওসি শামসুল আলম বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
পরে বিষয়টি চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম)-কে জানানো হলে তিনি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেন এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদকের দাবি, ঘটনার বিষয়ে CCTV ফুটেজসহ প্রাথমিক কিছু তথ্য-প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এখন CCTV ফুটেজ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব