ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং এর ফলে তেল সরবরাহে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ১৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ২০ ডলার।
এর আগে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দামে আকস্মিক বড় উত্থান দেখা যায়। ওই দিন ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এর ফলে গত ৩১ জুলাইয়ের পর তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। যুদ্ধের অবসান এবং তেল সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শান্তি চুক্তির জন্য ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের এমন অবস্থানের ফলে ইরানের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা আরও কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে চলমান যুদ্ধের দ্রুত অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। আর সরবরাহ নিয়ে এই উদ্বেগই তেলের দামকে আরও ঊর্ধ্বমুখী করে তুলছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর এর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম