রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি—এমন বিভিন্ন অভিযোগে বিদেশি নাগরিকদের ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের চলমান কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত একটি তথ্যবিবরণীতে (ফ্যাক্ট শিট) ভিসা বাতিলের কারণগুলো তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে। এর পাশাপাশি ভিসার শর্ত ভঙ্গ, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কারণেও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানত পাঁচ ধরনের কারণে বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল করা হয়েছে—অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা।
এর মধ্যে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত কয়েকটি ঘটনার উদাহরণে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থাকায় তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। অন্য একজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে। আবার শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণ রাখার অভিযোগে এক ব্যক্তি এক ডজনেরও বেশি মামলার মুখোমুখি হওয়ায় তার ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০টিরও বেশি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ভিসা বাতিল করেছে। এসব ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে অভিযোগ ছিল, সংশ্লিষ্ট মা-বাবারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, যাতে তাদের সন্তান মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করতে পারে।
ভিসা বাতিলের তালিকায় এমন কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন, যারা চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডে উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের মধ্যে একজন হত্যাকাণ্ডের পর ফ্যাসিবাদীদের মৃত্যু নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। অন্য একজন মন্তব্য করেছিলেন, চার্লি কার্কের আরও আগেই মারা যাওয়া উচিত ছিল।
উল্লেখ্য, চার্লি কার্ক ছিলেন একজন জনপ্রিয় রক্ষণশীল অধিকারকর্মী, যিনি গত বছর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি একটি সুবিধা (প্রিভিলেজ), কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবেন বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ভিসা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দপ্তরটি আরও জানিয়েছে, ভিসাধারীরা ভিসার শর্ত মেনে চলছেন কি না এবং তারা মার্কিন নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের বিপদের কারণ হচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এই চলমান যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবেই বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্তের কার্যক্রম ট্রাম্প প্রশাসন অব্যাহত রাখবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও নজিরবিহীনসংখ্যক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তারা ১ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। তখন সেটিকে রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা আরও বেড়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করা হয়েছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রমের ওপর নজরদারি এবং ব্যাপক যাচাই-বাছাইয়ের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারির নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের নজরদারি বাক্স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এবং অভিবাসীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আলাদা করে দেখার শামিল হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম