মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় কাজ করার সময় এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর সীমান্ত এলাকায় কাজ করা দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবির কাছে সোপর্দ করেছেন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী গ্রামের লোকজন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে ইছাখালী সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি নাগরিকের নাম আব্দুল মান্নান (৭০)। তিনি ইছাখালী মসজিদপাড়ার মৃত নুর বক্সের ছেলে।
আব্দুল মান্নানের নাতি ইব্রাহিম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে তার দাদা বাড়ির পাশের ঝালের জমিতে কীটনাশক দিতে যান। এ সময় ১২৪/৪-এস সীমান্ত পিলার এলাকার কাছ থেকে বিএসএফ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়।
দাদাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এর কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী গ্রামের কয়েকজন লোক সীমান্তের ১২৩/৩-এস পিলার এলাকা থেকে ভারতের লালবাজার গ্রামের দুই নাগরিককে ধরে আনেন।
পরে আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে বিজিবির কাছে সোপর্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশি ওই কৃষক সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড-সংলগ্ন ভারতীয় কৃষিজমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করা দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আটক বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয় নাগরিককে নিজ নিজ দেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি তেমন বড় কিছু নয়। ভারতীয় কৃষিজমিতে কাজ করার সময় একজনকে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেছে। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুইজন ভারতীয়কে ধরে আনা হয়েছে। অতি দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হবে।’
সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম