রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা ছাড়া সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এসডিজির নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জনে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সবার জন্য সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জনের পাশাপাশি এসডিজির অন্যান্য লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এসডিজির কাঙ্ক্ষিত অর্জন নিশ্চিত করতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার মতে, জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা ছাড়া টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন কঠিন।
সম্মেলনে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত এখনো পুরোপুরি স্যানিটেশনের আওতায় আসতে পারেনি। তবে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যমান দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং পানি বণ্টন ইস্যুতে পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বরেই ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, তবে একই সঙ্গে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিস্তা নদী নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে পানি সম্পদমন্ত্রী জানান, খুব শিগগিরই তিস্তা নিয়ে চলমান গবেষণার কাজ শেষ করা হবে। এরপর তিস্তা প্রকল্পকে দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি সুরক্ষিত রেখে কীভাবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়, সরকার সেটি বিবেচনায় রেখেই কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সম্মেলনে বক্তারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম