বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বেতকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয়ের মিলনায়তন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মোরেলগঞ্জ শাখার সভাপতি ও শিক্ষক মো. জাকির হোসেন মল্লিক। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন বিষয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা গান, আবৃত্তি, নৃত্যসহ নানা পরিবেশনায় অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বেতকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, মোরেলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা স্কাউটের সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান তালুকদার, পুটিখালি কালিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকন বখতিয়ার রহমান, বেতকাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সোলায়মান তালুকদার, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এম.এস. আলী, আলামিন সরদার, সেলিম হাওলাদার ও মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অনেকে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে মো. জাকির হোসেন মল্লিক শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাদক ব্যক্তি বা একটি পরিবারের জন্যই নয়, পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। তাই শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই মাদককে ‘না’ বলতে হবে এবং যেকোনো ধরনের মাদকাসক্তি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেন। মোবাইল ফোনের অপব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, মানসিক বিকাশ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে উল্লেখ করে তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই চলবে না। তাদের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধও গড়ে তুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থীকে আদর্শ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, বিদ্যালয় ও পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের আচরণ, মানসিক বিকাশ ও সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়নও নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার বিতরণ ও শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম