মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের ইছাখালী সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১২৪-এর ৪-এস-এর কাছে মাঠে কাজ করার সময় আব্দুল মান্নান নামে এক বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
এ ঘটনার পর একই মাঠ থেকে সচিন দাস ও নরোত্তম দাস নামে দুই ভারতীয় নাগরিককে ধরে ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্পে সোপর্দ করেন স্থানীয় গ্রামবাসী।
পরে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক শেষে তিনজনকে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদেরকে ফেরত দেওয়া-নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ইছাখালী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডসংলগ্ন নিজের জমিতে সার দেওয়ার সময় নবচন্দ্রপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ইছাখালী গ্রামের লোকজন সীমান্তের ওই মাঠে গিয়ে একই এলাকা থেকে সচিন দাস ও নরোত্তম দাস নামে দুই ভারতীয় নাগরিককে ধরে ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে আসেন। তারা ভারতের লালবাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পরে দুপুর ২টার দিকে ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্প ও ভারতের নবচন্দ্রপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যদের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে উভয় দেশের তিন নাগরিককে নিজ নিজ দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়।
দুই দেশের নয় সদস্যের দলের পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইছাখালী বিওপি কমান্ডার সুবেদার আবু হানিফ।
স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডসংলগ্ন মাঠে দীর্ঘদিন ধরে তারা চাষাবাদ করে আসছেন। তবে এ ঘটনার পর ওই মাঠে গিয়ে কাজ করা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে অনেকেই সেখানে কাজ করতে যেতে চাইছেন না।
৬ বিজিবি চুয়াডাঙ্গার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘সীমান্তের পরিস্থিতি বর্তমানে সমাধান হয়ে গেছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের তিন কৃষককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এখন ভয়ের কোনো কারণ নেই।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব