রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শক্তিকে দেশের জনগণ আর সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন। এ কারণেই স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের পরিবারকে নিয়ে শেখ হাসিনা নানা ষড়যন্ত্র করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশের সময় আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়েছে। একটি পরিবারকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করতে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা কোনো কিছুই বাদ রাখেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হওয়ার কারণেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরিদের পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে ফ্যাসিবাদী সরকার। শেখ হাসিনা কোনোভাবেই জিয়া পরিবারের দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা মেনে নিতে পারেননি। জনগণের ধাওয়া খেয়ে তাঁকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান এ দেশের বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সন্তানসহ বন্দি ছিলেন। সেই সময় তিনিও একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা।’
রিজভীর অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধের এই পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কাজ নেই যা করেননি। তিনি বলেন, জিয়া পরিবারের সদস্যদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন ও রাজনৈতিক হয়রানি চালানো হয়েছে।
শেখ হাসিনার পরিবারের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের অবদান নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও তাঁর বাবা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছিলেন।
রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বলেই তাঁর পরিবারকে প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানও বিভিন্ন সময়ে বন্দি ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, জনগণের মধ্যে জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কখনোই বরদাশত করতে পারেননি। এ কারণে জিয়া পরিবারের সদস্যদের একের পর এক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানকেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে যান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে।’ অন্যদিকে তারেক রহমান বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।
তারেক রহমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ ক্ষমতায় আসার দুই-তিন দিনের মধ্যেই অথবা শুরু থেকেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরাফাত রহমান কোকোর ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, ক্রীড়ার উন্নয়নে কোকো এমন একটি ব্যবস্থা চেয়েছিলেন, যেখানে যারা ক্রীড়াবিদ হবেন, ক্রীড়াই হবে তাঁদের পেশা এবং এর মাধ্যমেই তাঁরা জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। এ ধরনের ব্যবস্থা রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে করা উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সহকর্মী ও সতীর্থ হিসেবে একজন যোগ্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্রীড়াক্ষেত্রে আরাফাত রহমান কোকোর অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নেবেন বলে তিনি আশা করেন।
তিনি বলেন, এসব কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হলে আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম