রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জাতিসংঘ নির্ধারিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ঘোষণার বহু আগেই বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও উন্নয়ন দর্শনে এর মূল রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবি করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এসডিজিবিষয়ক সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসডির মূল উদ্দেশ্য অর্জনে প্রান্তিক পর্যায়ের হস্তশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের কারিগরদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের তৈরি পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার একটি সার্বিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আমির খসরু বলেন, এ বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না। বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।
একই সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে এসডিজির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গ্রামীণ কারিগরদের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, শীতলপাটি প্রস্তুতকারী, কামারসহ বিভিন্ন পেশার কারিগরদের শুধু মূলধন দিলেই হবে না। তাদের তৈরি পণ্যের মান বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, কারিগরদের উন্নতমানের কাঁচামাল বা ইনপুট কেনার সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা দিতে হবে, যাতে তাদের তৈরি পণ্য আলিবাবা, আমাজন বা ইবের মতো আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিপণনের উপযোগী হয়ে ওঠে।
এতে স্থানীয়ভাবে ১০ টাকার একটি পণ্যের মূল্যমান বাড়িয়ে ৩০ টাকা পর্যন্ত করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর ফলে কারিগরদের আয় বাড়বে এবং দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।
আমির খসরু বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থায়ন প্রক্রিয়া বা মনিটাইজেশনের আওতায় না আনা গেলে কোনো উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।
উন্নয়ন পরিকল্পনায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য ‘থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় থিয়েটারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলোকসজ্জাকর্মী, মেকআপ শিল্পীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কারিগরদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়া অর্থনীতি বা ‘স্পোর্টস ইকোনমি’ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। আমির খসরু বলেন, খেলাধুলার সঙ্গে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক খাত জড়িত। এসব খাতকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে বিপুল নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে থাইল্যান্ডের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটিতে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ ধারণার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার সাধারণ পণ্যের গুণগত মান উন্নত করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেগুলো রপ্তানি করা হয়।
বাংলাদেশেও প্রান্তিক পর্যায়ের কারিগরদের বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে নীতিগত সহায়তা ও বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সরকারের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, সরকার, এনজিও ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে ফ্যাশন ডিজাইনার, তাঁত বিশেষজ্ঞ এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বয়কারীরা একসঙ্গে কাজ করছেন।
তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সেখানকার ভুলত্রুটি চিহ্নিত ও সংশোধনের কাজ চলছে। দেশের প্রতিটি সামাজিক শ্রেণির জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু আরও বলেন, এসডিজি কোনো করুণা বা দান নয়; বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা সুপ্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি প্রক্রিয়া।
বিএনপি সরকারের আগের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আমলে দেশে বহু টেকসই উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক ইশতেহার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এসডিজির নির্ধারিত সূচকগুলোর চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে। এটি শুধু নীতিমালা বা খাতা-কলমের বিষয় নয়; এর পেছনে রয়েছে একটি দৃঢ় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা দ্রুত বাস্তবে প্রতিফলিত হতে যাচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম