সিলেট প্রতিনিধি: গ্যাস সংকটের অজুহাতে আগাম নোটিশ ছাড়াই সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার প্রতিবাদে সিলেটের তামাবিল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বিক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সিলেট নগরের শিবগঞ্জ এলাকায় সুরমা অটো কেয়ার পাম্পের সামনে জড়ো হয়ে তারা এই প্রতিবাদ জানান। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, যা নগরে তৈরি করেছে গভীর অসন্তোষ।
এর আগে গত ১২ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায় যে, এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমে গেছে। এর ফলে সারা দেশের ন্যায় জালালাবাদ গ্যাসের বিতরণ এলাকাতেও তীব্র স্বল্প চাপ বিরাজ করছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা গ্রাহকদের ৫০ শতাংশের মধ্যে গ্যাসের ব্যবহার সীমিত রাখার অনুরোধ জানায় এবং অন্যথায় সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না বলেও সতর্ক করে।
এই বিজ্ঞপ্তির পর বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ অনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগ ও জালালাবাদ গ্যাসের এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানানো হয়, জাতীয় সংকটের কারণে ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন প্রতিদিন সকাল আটটা পর্যন্ত সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকবে।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি গ্যাসের সরবরাহ। ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সকাল আটটার পর পাম্প খুলে দেওয়া হলেও গ্যাসে কাঙ্ক্ষিত চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। চাপ অত্যন্ত কম থাকায় গাড়িগুলোতে জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মালিক সমিতি বিষয়টি দ্রুত জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা জানিয়েছে।
এদিকে কোনো রকম পূর্বঘোষণা বা পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে হঠাৎ করে প্রতিদিন দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন পাম্প মালিকদের একাংশ। তাদের মতে, আগাম বার্তা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ায় সাধারণ চালক ও যাত্রীরা আকস্মিক বিপাকে পড়েছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে নগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিএনজি ফিলিং স্টেশন চালু রেখেছেন মালিকরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে জনগণকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া এবং সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম