রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে এবার আরও কঠোর হচ্ছে নজরদারি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হচ্ছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’। এই ব্যবস্থায় মহাসড়কে কোনো যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে, অবৈধভাবে পার্কিং করলে কিংবা উল্টোপথে চলাচল করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে। এরপর আইন অমান্যকারী গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে মামলার তথ্য।
আগামী মঙ্গলবার থেকে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রযুক্তিনির্ভর এই কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমানো, যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অটো ফাইন সিস্টেমের আওতায় মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এআই ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে। ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি শনাক্ত করা হবে।
প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো বা ওভারস্পিড, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে যানবাহন চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা এই প্রযুক্তির আওতায় আসবে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার তথ্য জানানো হবে।
এর ফলে প্রতিটি ঘটনায় মহাসড়কে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যকে সরাসরি যানবাহন থামিয়ে মামলা করতে হবে না। প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনাটি শনাক্ত ও নথিভুক্ত হওয়ার পর প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
মামলার তথ্য মোবাইল ফোনে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে দেশে প্রচলিত মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া সহজ হবে, অন্যদিকে মহাসড়কে পুলিশের সঙ্গে যানবাহন চালক বা মালিকের সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজনও কমবে।
হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর মনে করছে, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালু হলে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ও কমবে। নিয়মিত নজরদারির কারণে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতাও বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাসড়কে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার কার্যক্রমও শক্তিশালী হবে।
দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম মহাসড়কগুলোর একটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। ফলে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, অবৈধ পার্কিং ও উল্টোপথে চলাচলের মতো অনিয়ম প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। এমন বাস্তবতায় এআইভিত্তিক অটো ফাইন সিস্টেম চালুর উদ্যোগকে মহাসড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে হাইওয়ে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম