রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার প্রত্যাশা, দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ আসবে। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা।
রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।
মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। তবে সম্প্রতি দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য ও মতবিনিময়ের ঘটনায় সফর নিয়ে চলমান প্রক্রিয়ায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
শহীদুল করিম বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ভারতের কাছে স্পষ্ট করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধে ভারত দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করছে ঢাকা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাবে।
এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
তবে সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং ভারত সফর ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার হওয়ার পর আবারও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকার পক্ষ থেকে এখন সফরের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারতের দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যর্পণ ইস্যুতে অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলোতে ভারতের ইতিবাচক অবস্থানকে সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে সরকার।
ফলে সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর—দুটিই এখন ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম