কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মাসুদ মুন্সির ছোট ছেলে নাঈম হোসেন। স্থানীয় আলুকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থী মাত্র দুই মাস বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলছে তার। ছেলের চিকিৎসার পেছনে পরিবারের জমানো সব অর্থ শেষ হয়ে গেছে। এখন চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব।
বর্তমানে নাঈম ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নাঈমের হৃদযন্ত্রে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। আগামী তিন মাসের মধ্যে অপারেশন করানো না গেলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। এমনকি অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ছেলেকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে নাঈমের মা সাজিয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ডাক্তার বলেছে তিন মাসের মধ্যে আমার ছেলের হার্টে অপারেশন করাতে হবে। তা না হলে অকালে মারা যাবে। আপনারা একটু সহায়তা করলে আমার ছেলেটা আমার বুকেই থাকবে। এ কথা বলতে বলতে অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি।
নাঈমের বাবা মাসুদ মুন্সি স্থানীয় একটি কাঠের দোকানে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। প্রতিদিনের সামান্য আয় দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালানোর পাশাপাশি বড় মেয়ের হেফজখানার পড়াশোনার খরচ বহন করাই তাঁর জন্য কঠিন। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নাঈমের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে পরিবারের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে গেছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নাঈমের অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকা। দিনমজুরের মতো সীমিত আয়ের এই পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাতে সময়ও খুব কম। আগামী তিন মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে নাঈমের অস্ত্রোপচার করাতে হবে।
কোটচাঁদপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের সরকারি তহবিল থেকে এককালীন অনুদান দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নাঈমের পরিবার আবেদন করলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে সন্তানের জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন নাঈমের অসহায় বাবা-মা। তাঁদের প্রত্যাশা, মানবিক মানুষদের সম্মিলিত সহায়তায় প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ হবে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নাঈম ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবন।
মাত্র তিন মাসের মধ্যে অপারেশনের অর্থ জোগাড় করতে না পারলে নাঈমের জীবন আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এই শিশুটির জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম