ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে বর্তমানে রাশিয়ার কোনো রাষ্ট্রদূত দায়িত্বে নেই বলে নিশ্চিত করেছে লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস। একইসঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নজিরবিহীন অবনতির জন্য ব্রিটিশ সরকারকেই দায়ী করেছে মস্কো।
রোববার (২৩ আগস্ট) রুশ দূতাবাস টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। এর আগে সানডে টাইমস এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ইউক্রেনকে দেওয়া ব্রিটেনের সমর্থন পুনর্বিবেচনায় চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে রাশিয়া তার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনকে প্রত্যাহার করেছে।
তবে রুশ দূতাবাস বলেছে, কেলিনের কূটনৈতিক দায়িত্ব শেষ হলেও এর অর্থ এই নয় যে রাশিয়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মাত্রা কমানোর পরিকল্পনা করেছে। দূতাবাসের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে লন্ডনের উদ্যোগেই ঘটেছে।
দ্য টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, সাত বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করার পর আন্দ্রেই কেলিন গত ২১ জুলাই পদ ছাড়েন। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর উত্তরসূরির নাম প্রস্তাব করেনি মস্কো।
এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানায়, এটি রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। একই সঙ্গে তারা বলেছে, মস্কোয় তাদের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাস রয়েছে এবং ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি ইউক্রেনের কাছে সরবরাহ করা ব্রিটিশ ড্রোন রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে লন্ডনকে সতর্ক করেছিল মস্কো। রুশ দূতাবাস তখন ব্রিটেনকে এসব হামলার ‘সহযোগী’ ও ‘সহ-অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেছিল, সংঘাতে সম্পৃক্ততা বাড়ালে যুক্তরাজ্যকে তার মূল্য দিতে হবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্য কিয়েভের অন্যতম প্রধান মিত্র। দেশটি এখন পর্যন্ত ইউক্রেনকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন পাউন্ড সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৬ বিলিয়ন পাউন্ড সামরিক সহায়তা।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ