ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত জেলার সদর, রুহিয়া, বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন শিশু তিনজনের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে, একজন বিষপানে এবং একজন গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন।
সর্বশেষ সোমবার সকালে রুহিয়া উপজেলার আখানগর আশ্রয়কেন্দ্র এলাকায় পুকুরে ডুবে শিউলি আক্তার (১৭) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য, শিউলি জন্মসূত্রে মানসিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছিল। সকালে গোসল ও খাওয়ানোর পর তাঁকে বারান্দায় বসিয়ে রেখে তাঁর মা রান্না করতে যান।
কিছুক্ষণ পর বারান্দায় শিউলিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির পেছনের পুকুরে তাঁকে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মৃত অবস্থায় পান।
একই দিন সকালে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের চিলিভিটা এলাকায় পুকুরে ডুবে অন্তরা রানী (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। আগের দিন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে খেলার ছলে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ ছিল। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর সকালে স্থানীয় একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরিবারের ভাষ্য, অন্তরা অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে ডুবে মারা যেতে পারে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহের কথা জানানো হয়নি।
গত রোববার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয় ইউনিয়নের গুঞ্জরগড় এলাকায় বিষপানে মরিয়ম আক্তার (১০) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সকালে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ির পাশের ঢেপা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ায় তার মা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে রান্নাঘরে ডাকতে গিয়ে মেয়ের মুখে বিষের গন্ধ ও লালা দেখতে পান তিনি।
মরিয়মকে প্রথমে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিন বেলা ১টা ৪৯ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়, সবজি খেতে ব্যবহারের জন্য রাখা কীটনাশক পান করেছিল মরিয়ম।
এর আগে একই দিনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের বাঁশগাড়া এলাকায় পুকুরে ডুবে আনোয়ারা বেগম (৬৬) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। তাঁর ছেলে নিজাম উদ্দীনের ভাষ্য, আনোয়ারা দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্যারালাইসিসে ভুগছিলেন এবং লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আনোয়ারাকে বাড়িতে রেখে তাঁরা ছোট ছেলেকে চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে যান। বিকেলে তাঁরা খবর পান, বাড়ির পেছনের একটি পুকুরে পড়ে আনোয়ারার মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া আজ সকালে রানীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের বাকসা সুন্দরপুর এলাকায় সরক রাণী (৩৫) নামের এক নারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরিবারের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহগুলোর সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব