ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে বেকারত্ব নিয়ে মানসিক চাপে থাকা শুভ কুমার বর্মন (২৩) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘুমের ওষুধ ও বিষাক্ত পদার্থ সেবনের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভূল্লী উপজেলার খলিশাকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শুভ কুমার বর্মন ওই এলাকার সন্তোষ কুমার বর্মনের ছেলে। তাঁর বাবা গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুভ এইচএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা করেননি। বাড়িতে কৃষিকাজ করতেন। কিছুদিন ধরে তিনি স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া করতেন না এবং বেশির ভাগ সময় চুপচাপ থাকতেন। পরিবারের সদস্যরা কিছু জানতে চাইলে ঠিকমতো কথাও বলতেন না। বেকারত্ব নিয়ে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
শুভর বাবা সন্তোষ কুমার বর্মন জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ও তাঁর স্ত্রী নিজেদের কক্ষে এবং শুভ পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক দুইটার দিকে ছেলের কক্ষ থেকে দরজায় ধাক্কার শব্দ শুনতে পান তাঁরা। পরে কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় শুভকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সকাল সাড়ে দশটার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার খোচাবাড়ি এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে শুভর মৃত্যু হয়।
সন্তোষ কুমার বর্মন বলেন, ছেলের কক্ষে ঘুমের ওষুধের পাতা ও ইঁদুর মারার ট্যাবলেট পাওয়া যায়। বেকারত্ব ও মানসিক চাপের কারণে তাঁর ছেলে এসব সেবন করে থাকতে পারেন বলে পরিবারের ধারণা।
ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর সংবাদ গ্রহণ করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব