নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে জেলা পুলিশের এক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে ২৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি বিদেশি রিভলভার, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, ১৩ রাউন্ড তাজা গুলি-কার্তুজ, ৮ হাজার ৬৩৩টি ইয়াবা, ২৪৯ কেজির বেশি গাঁজা, ফেনসিডিল, কাফ সিরাপ ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে এক কোটি ১০ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় পণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে ৩০৫টি ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ অভিযানের ফলাফল নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় যৌথ ও সমন্বিত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে একটি বিদেশি পিস্তল (মেড ইন ইউএসএ), একটি দেশীয় তৈরি এলজি, ১৩ রাউন্ড তাজা গুলি/কার্তুজসহ বিভিন্ন দেশীয় ধারালো ও আঘাতকারী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ৮ হাজার ৬৩৩ পিস ইয়াবা, ২৪৯ দশমিক ৩৫ কেজি গাঁজা, ৪৯ বোতল ফেনসিডিল, আট বোতল ESKUF কাফ সিরাপ ও ছয় বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এক কোটি ১০ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, সাবান, তেল, ফেসওয়াশ, ক্রিম ও সিগারেটসহ একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানকালে একটি প্রাইভেটকার, একটি কাভার্ড ভ্যান, একটি মোটরসাইকেল, একটি চোরাই অটোরিকশা, দুই সেট বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, একটি ঢাল, একটি হেলমেট ও আনুমানিক ২০০টি মার্বেল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর, চর আড়ালিয়া, আমিরগঞ্জ ও মেঘনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে যৌথ নৌ-অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২২৪ কেজি গাঁজা, বিদেশি পিস্তল, এলজি, গুলি-কার্তুজ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটসহ দেশীয় অস্ত্র ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) শিবপুরের দক্ষিণ কারারচর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে এক কোটি ১০ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় পণ্যসহ একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করে। এ সময় ভ্যানটির চালককে আটক করা হয়। পৃথক অভিযানে ২৪ কেজি গাঁজা ও পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারসহ মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে মনোহরদীর কীর্তিবাসদী গ্রামে এক যুবক হত্যার ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পিতা ও মামলার মূল অভিযুক্ত আতাউর রহমান মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত কুড়ালটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে এক হাজার ৮৬৬টি যানবাহন তল্লাশি করা হয়। এ সময় ৩৫টি চোরাই মোটরসাইকেল আটক করা হয়। যানবাহন সংক্রান্ত ৩০১টি মামলা দায়ের করে ৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক বলেন, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি, অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব